হাজারো প্রাণের মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

হাজারো প্রাণের মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৭

হাজারো প্রাণের মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা

বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব পহেলা বৈশাখ এখন পরিণত হয়েছে প্রাণের উৎসবে। এ দিনটিতে পুরনোর জীর্ণতা, গ্লানি-ভেদ ভুলে নতুনকে আহ্বান করে বাঙালি। বাঙালির এ প্রাণের উৎসব নববর্ষকে বরণ করে নিতে রমনার বটমূলে ছায়ানটের কবিগুরু রবি ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো …সুরের তালে তালে বর্ষবরণের ঢেউ লাগে এদেশের কোটি বাঙালির মানসপটে।

আর বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে হাজারো মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মহাকর্মযজ্ঞ। শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে চারুকলা অনুষদের সামনে জমায়েত হতে থাকে হাজারো মানুষ।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। ৯টা বাজতেই শাহবাগ থেকে টিএসসি এলাকা বৈশাখের রঙে রঙিন মানুষের পদভারে ভরে ওঠে। ঘটির কাঁটায় তখন সকাল ৯টা বেজে ৬ মিনিট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.কামাল উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের নেতৃতে চারুকলা থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রাটি রূপসী বাংলা হোটেল চত্বর হয়ে হয়ে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়। “মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা” মর্মবাণী ধারণ করে ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িকতার ডাক দিয়ে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষক,ছাত্র,বুদ্ধিজীবী সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এতে তরুণদের অংশ নিতে দেখা গেল বৈশাখী পাঞ্জাবি আর মাথায় গামছা, যাতে লেখা ছিল এসো এসো হে বৈশাখ। তরুণীরা পরিধান করে বৈশাখী শাড়ি। ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখে রংতুলি দিয়ে লেখা ‘শুভ নববর্ষ’। এছাড়া বাঙালির উৎসবের এ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন অনেক বিদেশি পর্যটকও।

শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন অনেকে প্রশ্ন করে আমরা কেন এই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করি। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির জাতির ইতিহাস ঐতিহ্য ধরার পাশাপাশি দেশ ও বিশ্ববাসীর জন্য মঙ্গল কামনা করা হয়।

সাম্প্রতিককালে দেশের নিরাপত্তার কথা নিবেচনা করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশ, র‍্যাব সোয়াটসহ সাদা পোশাকেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করেন ডিএমপির কাউণ্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।