হাত-পা বেঁধে যুবক নির্যাতনকারী জকিগঞ্জের ‘ফকির মাস্তান’ আটক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

হাত-পা বেঁধে যুবক নির্যাতনকারী জকিগঞ্জের ‘ফকির মাস্তান’ আটক

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৯

হাত-পা বেঁধে যুবক নির্যাতনকারী জকিগঞ্জের ‘ফকির মাস্তান’ আটক

সিলেটের জকিগঞ্জে হাত-পা বেঁধে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে যুবককে নির্যাতনকারী ফকির মাস্তান খ্যাত ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলার কানাইঘাটের দনা বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক আব্দুছ ছালাম ওরফে ফকির মস্তান উপজেলার কাজলসার ইউপির চারিগ্রাম মহিবুর রহমানের (ডালই) ছেলে। এর আগে নির্যাতনে সহযোগিতার কারণে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের আরো তিন ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার রাতে আব্দুস সালামের স্ত্রীকে আটক করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার রাত থেকে জকিগঞ্জের ইউপির সদস্য আব্দুস ছালাম একই ইউপি বড়বন্দ গ্রামের সফর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনকে অমানসিক নির্যাতনের ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে সর্বত্র ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠে। তাকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সর্বমহলে দাবি উঠে।

উপজেলার বড়বন্দ গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য এবাদুর রহমানের বাড়িতে ধারণ করা ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে যুবক গিয়াস উদ্দিনকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম। নির্যাতনের শিকার গিয়াস উদ্দিন চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলছেন, ভাই ছেড়ে দেন আর মাইরেন না, আমি মরে যাব। কিন্তু নির্যাতনকারী থামেনি। শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এমন নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।

অভিযোগ রয়েছে, বিচারের নামে অমানুষিক নির্যাতন, নারী কেলেঙ্কারী ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসেন ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা না বলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। তবে ১০ নভেম্বর উপজেলার আটগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ধর্মান্তরিত মুসলিম আব্দুল মান্নান বুতুলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় চলে আসেন এ ইউপি সদস্য।

নও মুসলিম আব্দুল মান্নান বুতুলকে ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম বাহিনী বেধড়ক মারধর করে জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৩টায় তিনি মারা যান।

১৪ নভেম্বর সিলেটের এসপির বরাবর এক লিখিত অভিযোগে শাকিল আহমদ বলেন, চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্না করলে ছালাম মেম্বার তাদের বলেন, যদি কান্নাকাটি করেন তাহলে তাদের হত্যা মামলায় জড়াবেন। তাদের তিনি নিশ্চুপ থাকতে বলেন। পরদিন ছালামসহ  পাঁচজন এশার নামাজ চলার সময় চুপিসারে মাইকিং না করে অন্ধকারে বুতুলের মরদেহ দাফন করেন। এ ব্যাপারে বুতুলের চাচাতো ভাই শাকিল মুখ খুললে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। তিনি প্রাণ রক্ষার্থে পুলিশ সুপারের আশ্রয় কামনা করেন।

জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের জানান, যে বিষয়টি নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়। কারাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির দনা বাজার থেকে অভিযুক্ত আব্দুস সালামকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে জকিগঞ্জ থানায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল