হাফিজ উদ্দিন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জনের তিন বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

হাফিজ উদ্দিন হত্যা মামলায় ৮ জনের  যাবজ্জীবন, ৪ জনের তিন বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংর্ঘষে নিহত হওয়া হাফিজ উদ্দিন (৩০) হত্যা মামলার রায়ে ৮ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৪ জন আসামিকে ৩ বছরের সাজা ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত। গতকাল ২৫ নভেম্বর সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহের এ রায় দেন। রায়ের সময় মামলার আসামি ময়নুল মোহাম্মদ, আব্দুল মুকিত ও জাকির হোসেন ছাড়া বাকি ১২জন  আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে গত ১৯ জুন (২০১৭) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় বড়লেখা উপজেলা বিএনপি। বড়লেখা পৌরশহরে যুবদল সভাপতি ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে তাতে বাঁধা দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চড়াও হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আহত হওয়া হাফিজ উদ্দিন (৩০) নামে গুরুতর আহত হওয়া এক পথচারী রাত ১০টায় বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। এদিন রাতেই নিহত হওয়া পথচারী হাফিজ উদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর বাদি হয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ১৫ জন নেতাকর্মীর নামোল্লেখ ও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি রেখে থানায় একটি মামলা (নং-৮৩/১৭) করেন।

মামলার আসামীরা হলেন-১নং উপজেলা যুবদল সভাপতি ফখরুল ইসলাম, ২নং ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদির পলাশ, ৩নং যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী ময়নুল মোহাম্মদ, ৪নং ফয়সল আহমদ , ৫নং ললন, ৬নং খোকন, ৭নং মামুন, ৮নং সেলিম উদ্দিন, ৯নং আব্দুল করিম, ১০নং আব্দুল কালাম, ১১নং আব্দুল মুকিত, ১২নং কাদির, ১৩নং কবির আহমদ, ১৪নং জাকির হোসেন ও ১৫ নং জামিল আহমদ। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ১নং আসামি উপজেলা যুবদল সভাপতি ফখরুল ইসলাম ও ২নং আসামি ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদির পলাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে সব আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও মামলার ১১নং আসামি আব্দুল মুকিত ও ১৪নং আসামি জাকির হোসেনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। সম্প্রতি এ ঘটনার তদন্ত শেষে পুলিশ অজ্ঞাত ৫ আসামিকে বাদ দিয়ে ১৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) জমা দেয়। গতকাল ২৫ নভেম্বর সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহের এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মামলার ১নং আসামি উপজেলা যুবদল সভাপতি ফখরুল ইসলাম, ২নং ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদির পলাশ, ৩নং যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী ময়নুল মোহাম্মদ, ৪নং ফয়সল আহমদ, ৫নং ললন, ৮নং সেলিম উদ্দিন, ১১নং আব্দুল মুকিত ও ১৪নং জাকির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মামলার ৬নং আসামি খোকন, ৭নং মামুন, ৯নং আব্দুল করিম ও ১০নং আব্দুল কালামকে ৩ বছরের সাজা ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড ঘোষণা দেওয়া হয়। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার ১২ নং আসামি কাদির, ১৩নং কবির আহমদ ও ১৫নং জামিল আহমদকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসিম বলেন, ‘হাফিজ উদ্দিন হত্যা মামলায় ১৫ আসামির মধ্যে ৮ আসামির যাবজ্জীবন এবং ৪ আসামিকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড  এবং ৩ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৫ জন এবং ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল