হ য ব র ল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

হ য ব র ল

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২০

হ য ব র ল
তালুকদার তুহিন
একটা অদ্ভুত পরিস্থিতিতে আছি আমরা সবাই,বিষয়টা না “ঘরকা না ঘাটকা” অর্থ্যাৎ “না এই কুল না ঐ কুল”উভয় সংকটে আছে দেশ।পৃথিবীর সব দেশের মতোই বাংলাদেশেও বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা এবং এটা নিয়ন্ত্রণ করা আর কোন মতেই সম্ভব হচ্ছে না সরকারের দ্বারা।যদিও সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিন্তু অদৃশ্য এই করোনা ভাইরাস তার প্রতাপ বাড়িয়ে চলছে।তার উপর স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা স্বাস্হ্যমন্ত্রীর কর্মকান্ড একি সাথে ব্যাপক হাস্যরস এবং হতাশার জন্ম দিয়েছে।অনেকগুলো বিষয় সামনে আসছে।তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকার কেন গার্মেন্টস খুলে দিলেন বা সীমিত পরিসরে মার্কেট খুলে দিলেন,শুনা যাচ্ছে আস্তে আস্তে গণপরিবহনও খুলে দেওয়া হবে।কিন্তু এছাড়া সরকারের আর করার আছেই বা কি?বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ,এই দেশের পক্ষে দীর্ঘদিন জনগনকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব না কারণ আমরা মোটামোটি সবাই জানি “দারিদ্র্যতা”।গার্মেন্টসও যদি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে চাকরি হারাবে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক,বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম গার্মেন্টস ব্যবসাও পড়বে ঝুঁকির মুখে।তার উপর রয়েছে ত্রান বিতরণ নিয়ে অনেক অনিয়মের খবর।মাননীয় সরকার প্রধান মধ্যবিত্তদের যে বিশেষ প্রণোদনার তালিকা করতে বলছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার বা কমিশনারদেরকে,তা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সরকারের পক্ষে তৃনমূলের সব জায়গায় আসলে খবর নেওয়াও হয়তো সম্ভব না।এ জায়গায় যেটা দরকার সেটা হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ তৈরী।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরী হয়েছে কিছুটা হতাশা,সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পড়েছে এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা।এপ্রিলের শুরুতে তাদের পরিক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কবে নাগাদ শুরু হবে সেটা কেউ জানে না।সরকার মহোদয় ও কোন ঝুকিতে যাবেন না এবং এটা খুবই যুক্তিসঙ্গত।যদিও অনলাইন ক্লাসের কথা বলা হচ্ছে,বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সিনিয়র শিক্ষক-শিক্ষিকাই আছেন যারা এন্ড্রয়েড মোবাইল ভালো করে চালাতে পারেন না,অনলাইন ক্লাস তো অনেক পরের বিষয়।অফিসিয়ালি হয়তো দেখা যাবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে,কিন্তু বাস্তবে যে তা কতটা সম্ভব তা আমরা সবাই জানি।
সবমিলিয়ে যে হ য ব র ল পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তার জন্য কেবল সরকারের দোষ খুজলে হবে না,আগে পড়ে আমাদের লকডাউন খুলে দিতেই হবে,তখন আমাদের একটাই করার আছে,সেটা হচ্ছে সচেতন থাকা।এই কয়েকমাসে আমরা যেভাবে শিখেছি কি করে নিজেকে জীবানুমুক্ত রাখা যায়,সেই অভ্যাসটাই চালু রাখতে হবে আমাদের।
আশার আলো হিসেবে অনেক খবরই আসছে,তাও নিতান্ত কম নয়।জাপানে প্রস্তুতকৃত ঔষধ যা করোনা রোগীর উপর প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে,বাংলাদেশের একটা ঔষধ কোম্পানি ঐ ঔষধ তৈরী শুরু করেছে এবং বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন তা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।এদিকে সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেক্সিন তৈরীর কাজ চলছে,যা আমরা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কতৃক সবাই জানি।হয়তো তাতে কয়েকমাস সময় লাগবে কিন্তু একসময় হবেই এই আশা আমরা করতেই পারি।
কলামিস্ট,প্রভাষক(ইংরেজি)এবং সভাপতি,সাকসেস হিউম্যান রাইট সোসাইটি,সিলেট জেলা।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •