১০ টাকার চাল পাচ্ছেন চেয়ারম্যানের পিতা-ভাই-চাচা ও কোটিপতিরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

১০ টাকার চাল পাচ্ছেন চেয়ারম্যানের পিতা-ভাই-চাচা ও কোটিপতিরা

প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৬

১০ টাকার চাল পাচ্ছেন চেয়ারম্যানের পিতা-ভাই-চাচা ও কোটিপতিরা

bagerhat_bd_pratidin১৯ অক্টোবর ২০১৬, বুধবার: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাতটি ইউনয়নের হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকার চালপ্রাপ্তদের তালিকা তৈরিসহ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কচুয়া ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের নামের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা আত্মীয়স্বজন, দলীয় কর্মী, পরিবারের সদস্যদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

১০ টাকার চাল পাচ্ছেন সরকারি চাকুরিজীবী, নেতাকর্মী ও বিত্তবানরাও। গোপালপুর, মঘিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলাররা মাপেও কম দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাড়ীপাড়া ইউনিয়নে কার্ড বিতরণের সময় কার্ড প্রতি ১০ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের ১৭৩০ জন হতদরিদ্রদের নামের তালিকার মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যানের পিতা সুলতান আলী নকীব, তার চাচা জালাল নকীব (কোটিপতি), চেয়ারম্যানের ভাই নকীব শহিদুল ইসলামের নাম রয়েছে। বিলকুল গ্রামের বাসিন্দা নকীব কবির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক। ১০টাকা কেজি দরে চালপ্রাপ্তদের তালিকা তাদের নামও হয়েছে।

হতদরিদ্রদের তালিকায় আরো আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ হাবিবুর রহমান, যশোরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পানবাড়িয়া গ্রামের তপন কুমার সরকার, পানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অপর সহকারি শিক্ষক শেন ভিস্ম রঞ্জন, মসনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক দাসের মা সরকারি চাকুরিরত এবং স্ত্রী মসনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিতা রানী দাস, আলোকদীয়া গ্রামের ডাক্তার হিমাংশু দাসের পুত্র মসনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সুরঞ্জীত দাস, বিলকুল গ্রামের  গ্রামীন ব্যাংকে চাকুরিরত বাবলু মোল্লা,  পল্লী বিদ্যুৎএ চাকুরিরত শেখ মোকাম্মেল হোসেন, পিংগড়িয়া গ্রামের ট্রাকের মালীক মসিউর রহমান কোটাল, বিলকুল গ্রামের শতাধীক বিঘা জমির মালিক গৌতম কুমার দেবনাথ ও নারায়ন চন্দ্র দেবনাথ, সমাজ সেবায় কর্মকর্তার স্ত্রী রাশীদা বেগম, ইউপি সদস্য আ. বারেক পাইকের ছেলে সোহেল পাইক, বিলকুল গ্রামের বৃত্তবান মো. সাহেব আলী শেখ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কোটাল হেমায়েত।

অথচ বিলকুল গ্রামে দিনমজুর প্রতিবন্ধী আমজাদ আলীর মতো অনেক হতদরিদ্রের নাম তালিকায় নেই। এরকম শত-শত হতদরিদ্রদের বঞ্চিত করে বিত্তবান, সরকারি চাকুরীজীবী হাতিয়ে নিচ্ছে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ টাকার চাল।

ইউপি চেয়ারম্যান নকীব ফয়সাল অহিদ জানান, অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করায় তালিকায় ভুল হয়। এটা সংশোধন করা হয়েছে।

নিজের পিতা, ভাই ও চাচাসহ নিকটজনদের নামও কি আপনি ভুল করে তালিকায় উঠিয়েছেন? – এ প্রশ্ন করা হলে চেয়ারম্যান কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল