১০ টাকার লোভ দেখিয়ে শাহপরাণে শিশু ধর্ষণ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেটের দিনকাল-এ সংবাদ প্রকাশের পর মামলা দায়ের
১০ টাকার লোভ দেখিয়ে শাহপরাণে শিশু ধর্ষণ

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সিলেটের দিনকাল-এ সংবাদ প্রকাশের পর মামলা দায়ের </span> <br/> ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে শাহপরাণে শিশু ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট শহরতলীর শাহপরাণ এলাকায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক সবজি বিক্রেতার বিরুদ্ধে। গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) শাহপরাণ থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রামে সবজি বিক্রেতা ময়না মিয়া (৩৫) ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৯ বছরের মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে তার বসতঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুর মা বাদী হয়ে শাহপরাণ এলাকায় মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগপত্র দিলেও মামলা দায়ের না করে সেখানে শিশুর মা ও বড় ভাইকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
শিশুর বড় ভাই আলামিন জানায়, আমরা মামলা দায়েরের জন্য গেলে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদেরকে নারী ও শিশু নির্যাতন বিভিন্ন আইন দেখিয়ে বলেন মামলা করা যাবেনা। আগে আসামী ধরবো তার পর মামলা করবো। কিন্তু দুদিন পার হলেও আসামী ধরা হচ্ছে না। শাহপরাণ থানার পুলিশ খুরশেদ আলম আমাদের সাথে এই ব্যবহার করেন। তিনি বললেন ওসি সাহেব না আসলে মামলা দায়ের করা যাবেনা। এভাবে অনেক বিলম্বে পড়তে হয়েছে। যতবারই গেলাম একবারও ওসি সাহেবকে থানায় পেলাম না। প্রথমে বলা হলো ওসমানী থেকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)’র রিপোর্ট লাগবে। সেটাও নিয়ে গেলাম তবুও মামলা দায়ের করা হয়নি।
এ নিয়ে সিলেটের দিনকাল’র অনলাইন ভার্সনে বুধবার ‘১০ টাকার লোভ দেখিয়ে শাহপরাণে শিশু ধর্ষণ, থানা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা’ হেডলাইন শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে থানা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করেন। ময়না মিয়াকে আসামী করে শাহপরাণ থানায় এ মামলা দায়ের করেন শিশুর মা। মামলা নং-১৭/২১.১১.১৯ইং।
শিশুর মা অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, ৪ মেয়ে ২ ছেলেসন্তান রেখে প্রায় আড়াই বৎসর পূর্বে আমার স্বামী মারা যান। আর্থিক অনটন থাকায় নিরুপায় হয়ে পরের বাসাবড়িতে কাজ করে ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে জীবিকানির্বাহ করে আসছি। আমার ৩য় মেয়ে সে মাদ্রাসায় ২য় শেণীতে পড়ে। ময়না মিয়া আমাদের পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা এবং সম্পর্কে আমার দেবর। আমার মেয়ে প্রতিদিনের মতো কোচিংয়ে যাওয়ার পথে ময়না মিয়া আমার অবুঝ মেয়েকে ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে তার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমার মেয়ে কান্নাকাটি করলে ময়না মিয়া আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমার মেয়ে কান্না করে রাস্তা দিয়ে আসার সময় আমার কাছে সে ঘটনার বিস্তারিত বলে তখন স্থানীয় সেলিম মিয়া ও পান্না বেগম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কান্নারতবস্থায় দেখলে তারাও ঘটনা সম্পর্কে জানেন। আমি নিরুপায় হয়ে বিচারপ্রার্থী হইলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ বিষয়টি সমাধান করে দেবেন বললে আমি রাজী না হয়ে আইনের আশ্রয় নিই। আমার আত্মীয় স্বজনের পরামর্শে আইনের আশ্রয় গ্রহণের জন্য মেয়েকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলে জরুরী বিভাগের মাধ্যমে ওসিসিতে ভর্তি করি।
এসএমপির শাহপরাণ (রহ.) থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, অপরাধীকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত আছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী ময়না মিয়া কোনোভাবেই ছাড় পাবেনা। হয়রানির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আরো বলেন, আমি এর আগে মোগলাবাজার থানায়ও ছিলাম। অতীতে কেউ হয়রানির শিকার হয়নি। আমি এই থানায় আসার পর এখানেও এখন পর্যন্ত আমরা সাধারণ মানুষকে কোনোপ্রকার কষ্ট দেইনি। আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মামলায় বাহিরে থাকতে হয়। সেই কাজটাও তো আমরা সাধারণের জন্য করি। আমি ছিলাম না হয়তো এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে আর এভাবে কেউ হয়রানির শিকার হবে না।