১৯ দফা দাবী সম্বলিত প্রচারপত্র পোস্টার লাগানো ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

১৯ দফা দাবী সম্বলিত প্রচারপত্র পোস্টার লাগানো ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৭

১৯ দফা দাবী সম্বলিত প্রচারপত্র পোস্টার লাগানো  ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাতীয় সম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র পুণঃরুদ্ধারের সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর ব্যস্ততম জিন্দাবাজার এলাকায় মহানগর বিএনপির উদ্যেগে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯ দফা দাবী সম্বলিত প্রচারপত্র পোস্টার লাগানো ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সালেহ আহমদ খছরু, মাহবুব চৌধুরী, রেজাউল করিম আলো, মুকুল মুর্শেদ, ডা. আশরাফ আলী, জেবুল হোসেন ফাহিম, মোস্তাক হোসেন, লল্লিক আহমদ চৌধুরী, মির্জা লিটন, শেখ কবির আহমদ, আমিনুর রহমান খোকন, আব্দুস সামাদ তুহেল, ফাত্তাহ বকসী, মামুন আহমদ মামুন, শামীম মজমুদার, নজির হোসেন, আলী হোসেন মুক্তার, জিয়াউর রহমান দিপন, আব্দুস শুকুর, এস এম ইলিয়াস, সোহেল বাছিত, উজ্জল রঞ্জন চন্দ্র, আব্দুস সোবহান, আসাদ আহমদ, নোমান আহমদ, মমতাজ হোসেন মুন্না, আব্দুস ছবুর, আব্দুল করিম জোনাক, আলী আকবর রাজন প্রমুখ।
১৯ দফা দাবী গুলোতে সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সংসদ ভেঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। দেশে গণতন্ত্র এখন অবরুদ্ধ। বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর দাবিও জানান তিনি। প্রচারপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পাচার, ব্যাংক লুট, শেয়ার কেলেঙ্কারিসহ রাষ্ট্রের টাকা আত্মসাৎ ও পাচারকারীদের গ্রেফতার এবং পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশাসন আওয়ামীকরণ, আঞ্চলিকীকরণ বন্ধ এবং বিচার বিভাগকে সরকারের প্রভাবমুক্ত করা, শিক্ষার মান ধ্বংস, পরীক্ষায় কৃত্রিম উপায়ে পাসের হার বৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দলীয়করণের ঘৃণ্য অপতৎপরতা বন্ধ করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও আছে সুন্দরবন রক্ষার্থে পরিবেশ বিধ্বংসী ও বিতর্কিত কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুকেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করা, সার, কীটনাশক ও বীজের দাম কমানো, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য কমানো, শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ধর্মীয় উপাসনালয়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত হামলা বন্ধ, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা। পাশাপাশি ‘বাজারে আগুন, বিপর্যস্ত জনজীবন’ শিরোনামে আরেকটি পোস্টার তৈরি করা হয়েছে। একই ভাবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলে নিত্যপণ্য ও সেবাজাতীয় পণ্যের দামের তারতম্য তুলে ধরা হয়েছে এই পোষ্টারে। ক্যাবের (কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সূত্র উল্লেখ করে বিএনপি হিসেব করে দেখিয়েছে, মোটা চালের দাম বিএনপি সরকারের সময়ে ছিল ১৮.২৫ টাকা এখন দাম ৩৫.৪১ টাকা। বেড়েছে ১৫৮.১৬ শতাংশ। আটার দাম বেড়েছে ৭০.৬৬ শতাংশ, ডাল ১২৬.৪১ শতাংশ, ভোজ্যতেল ১২৮ শতাংশ, লবণ ১৫৯.১৮ শতাংশ, চিনি ৩১ শতাংশ, গরুর গোস্ত ১০৪.২৮ শতাংশ, খাসির গোস্ত ১৮৭.৯০ শতাংশ, পিঁয়াজ ৯৫ শতাংশ ও গুঁড়া দুধ ৯১.৯৬ শতাংশ বেড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এ রকম অনেক পণ্যের বর্তমান দাম তুলে ধরার পাশাপাশি জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, গণপরিবহন, বাড়িভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, সিএনজি অটোরিকশা, জমির খাজনা ও সারের দাম বিএনপি সরকারের চেয়ে অনেকগুণ যে বেড়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়াও গুম, খুন, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ এবং এসবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী; অপহৃত সব নাগরিককে পরিবারের কাছে ফেরত প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল