‘২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে প্রাণহানি বেড়েছে ২২.২ শতাংশ’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

‘২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে প্রাণহানি বেড়েছে ২২.২ শতাংশ’

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

‘২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে প্রাণহানি বেড়েছে ২২.২ শতাংশ’

২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট-২০১৭’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ২২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ও আহতের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বক্তব্য তথ্য তুলে ধরেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড.হোসেন জিল্লুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফুয়ারার সভাপতি ইকরাম আহম্মেদ, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির হিরু, মুক্তিযোদ্ধা মো. হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংগঠনটি।

এতে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে ছোট-বড় ৪,৯৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোট ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছেন ১৬ হাহার ১৯৩ জন। এর মধ্যে হাত, পা বা অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন ১ হাজার ৭২২ জন। এইসব দুর্ঘটনায় আর্থিক হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে জিডিপির প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ।

এ সময় ১ হাজার ২৪৯টি বাস, ১ হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৭৬ টি হিউম্যান হলার, ২৬২টি কার, জীপ, মাইক্রোবাস, ১০৭৪ টি অটোরিক্সা, ১৪৭৫টি মোটরসাইকেল, ৩২২ টি ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ৮২৪টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে, ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না প্যাঁচিয়ে হয়েছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে বলেন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনা, বিপদজনক অভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ক্রটি, ফিটনেস বিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পরা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকায় রাস্তার মাঝ পথে পথচারীদের যাতায়াত।

এসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত পরিকল্পনা না গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিবে।

সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছেন।

এতে দেখা যায়, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে মোট দুর্ঘটনা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ, নিহত ২২ দশমিক ২ শতাংশ, আহত ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধিবিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, মসজিদ, মন্দির, গির্জায় জনসাধারণের জন্য ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা, ফুটপাত বেদখল মুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা।

সুপারিশের মধ্যে আরও রয়েছে- জেব্রাক্রসিং অংকন করা, চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাত্রী বান্ধব সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে আধুনিকায়ন করা, জাতীয় মহাসড়কে স্বল্পগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেন এর ব্যবস্থা করা প্রভৃতি।