৩৭ জঙ্গিসহ গ্রেপ্তার ৩১৯২ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

৩৭ জঙ্গিসহ গ্রেপ্তার ৩১৯২

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৬

৩৭ জঙ্গিসহ গ্রেপ্তার ৩১৯২

jongiদেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ ‘জঙ্গি’সহ ৩ হাজার ১৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের মধ্যে ২৭ জন জাম’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি, ৭ জন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ-জেএমজেবি এবং বাকি ৩ জন অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সদস্য বলে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বিশেষ অভিযানের প্রথম দু’দিনেই কারাগারে বন্দির চাপ বেড়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সারা দেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৩৪ হাজার ৬৮১ জনের। বিশেষ অভিযান শুরুর আগে কারাগারগুলোতে প্রায় দিগুণের বেশি কারাবন্দি ছিল। বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানোয় এ চাপ আরো বেড়েছে। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ঢাকা রেঞ্জের গাজীপুর জেলা ১ জন জেএমবি, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ময়মনসিংহ জেলা ১ জন জেএমবি, শেরপুর জেলা ১ জন জেএমবি, রাজশাহী রেঞ্জের রাজশাহী জেলা ৭ জন জেএমজেবি, ২ জন জেএমবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জজেলা ৩ জন জেএমবি, সিরাজগঞ্জ জেলা ১ জন জেএমবি, বগুড়া জেলা ১১ জন জেএমবি, খুলনা রেঞ্জের নড়াইল জেলা ১ জন জেএমবি, রংপুর রেঞ্জের দিনাজপুর জেলা ২ জন জেএমবি, গাইবান্ধা জেলা ১ জন জেএমবি, কুড়িগ্রাম জেলা ২ জন জেএমবি, ডিএমপি, ঢাকা ৩ জন এবং আরএমপি, রাজশাহী ১ জন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি সদস্যদের কাছ থেকে ১টি শুটারগান, ১ রাউন্ড গুলি, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার, ১৫টি ককটেল, ২১টি জেহাদী বই এবং ১৫টি ব্যক্তিগত ডা
য়েরি উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২৭ জঙ্গিসহ দেশব্যাপী গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, নিয়মিত মামলা এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার মামলায় মোট ৩ হাজার ১৫৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে ১ হাজার ৮৬১ জন, নিয়মিত মামলায় ৯১৭ জন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার মামলায় ১৯ জন এবং মাদক উদ্ধার মামলায় ৩৫৮ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৭৫৭টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে।
রংপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রংপুরে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রংপুরের আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, নাশকতা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিও রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রংপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, রমজান মাসে জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধ ঘটাতে না পারে সে জন্য আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী ধরতে বিশেষ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ১০ জামায়াত নেতাকর্মীসহ ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, নিয়মিত মামলার আসামি, মাদক বিক্রেতা ও চাঁদাবাজ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খুলনা জেলা পুলিশ জানায়, অভিযানের দ্বিতীয় দিনে শনিবার খুলনার ৯ থানায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়রায় জামায়াতের ৩ জন, ডুমুরিয়ায় ৬ জন রয়েছে। বাকিরা সব বিভিন্ন মামলার আসামি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানিয়েছেন, খুলনা মহানগরীর আট থানা এলাকা থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের দৌলতপুর থানার সুরা সদস্য আশরাফুজ্জামান রয়েছেন। এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ খালিশপুর হাউজিং এলাকা থেকে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ মনিরুজ্জামান ওরফে জামানকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়ায়। সে ওই এলাকার মৃত গোলাম সরোয়ারের ছেলে। বাকিরা সব বিভিন্ন মামলার আসামি।
মুন্সীগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযানের দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, শুক্রবার মোট ৩৩ জনকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরো জানান, গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার সন্তোষপাড়া এলাকা থেকে সিরাজদিখান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে।
হবিগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অ্যাডভোকেট আবদুস সহিদসহ বিভিন্ন মামলার ২৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির জানান, ৯ জুন রাত থেকে পরদিন পর্যন্ত অভিযানে সারা জেলায় ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিন ১৮ জন ও দ্বিতীয় দিন ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ  জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার বাসিন্দা জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সহিদ (৭০) ও একই এলাকার অ্যাডভোকেট ছাব্বির আহমেদকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন জেহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
নোয়াখালী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের ২য় দিনে নোয়াখালীতে জামায়াত-শিবিরের পাঁচ কর্মীসহ ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক হওয়াদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বিভিন্ন থানা সূত্রে জানা যায়, সুধারাম থানায় ২ জামায়াত-শিবিরকর্মীসহ ৬ জন, বেগমগঞ্জ থানায় শিবিরের ২ কর্মীসহ ৮ জন, সোনাইমুড়ী থানায় শিবিরের এক কর্মীসহ ৬ জন, সেনবাগ থানায় ৬ জন, হাতিয়ায় থানায় ১০ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৫ জন, চরজব্বর থানায় ৪ জন, চাটখিল থানায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ইলিয়াছ শরীফ ৫০ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ৬৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানের প্রথমদিনে ৬৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযানের দ্বিতীয় দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত বিভিন্ন মামলার আসামি ও নাশকতা করতে পারে এমন সন্দেহভাজনসহ ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে কয়েকজনের কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শহর জামায়াতের আমীর জিয়াউল কবির, সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদসহ ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার জেলা সদরসহ সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।  জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামিও রয়েছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ আরো ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে গত দুদিনে মোট ৫৪ জনকে আটক করা হলো।  শুক্রবার বিকাল থেকে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত আটক ৩১ জনের মধ্যে ১৩ জন জামায়াত-শিবিরের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন মামলার অভিযুক্ত পলাতক আসামিও রয়েছেন। সূত্র অনুয়ায়ী, নীলফামারী সদর উপজেলায় ৮ জন, জলঢাকায় ২ জন, ডোমারে ৩ জন, ডিমলায় ৩ জন, কিশোরীগঞ্জে ৮ জন এবং সৈয়দপুর উপজেলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলা সাঁড়াশি অভিযানে জামায়াত-শিবিরের ১৫ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১২ জন, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ১১ জন, মহেশপুর উপজেলায় ৮ জন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ৭ জন, শৈলকুপায় উপজেলায় ৬ জন ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নাশকতার পরিকল্পনা করার জন্য ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় পরিচালনা করা হয়। অভিযান কলে জামায়াত-শিবিরের ১৫ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ৪৮ জনকে আটক করা হয়।
যশোর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, যশোরে সাঁড়াশি অভিযানে পুলিশ ১০১ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে বিএনপির ৫ ও জামায়াতে ইসলামীর মহিলা রোকনসহ ১৮ জন নেতাকর্মী রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন মামলার ফেরারি আসামি বলে পুলিশের এক প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাত থেকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতদের দুপুরের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটককৃতদের কয়েকজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামী দলের প্রচার বই, লিফলেট, জিহাদী বই, মাওলানা আবুল আলা ওদুদীর লেখা বইসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর বিভিন্ন মালামাল। কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেনের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গাইবান্ধা থেকে উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি জানান, এক জেএমবি সদস্যসহ বিশেষ অভিযানে শুক্রবার রাতে গাইবান্ধার বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাইবান্ধা পুলিশ অফিস জানায়, পুলিশের খাতায় জেএমবি সদস্য মেহেদী হাসানকে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ পূর্ব কোমরনইয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া পলাশবাড়ি থেকে এক বিএনপিকর্মীসহ সাদুল্যাপুর, পলাশবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা থেকে আরো ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাজীপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গাজীপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক জেএমবি সদস্যসহ ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে জয়দেবপুর থানায় ৩৭ জন, টঙ্গীতে ২০ জন, শ্রীপুরে ৭ জন, কাপাসিয়ায় ৫ জন, কালীগঞ্জে ৭ জন এবং কালিয়াকৈর থানায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার পলাতক, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধীও রয়েছে। এছাড়া অভিযানে নম্বরবিহীন ২৬টি মোটরসাইকেল, ৮১ পিস ইয়াবা ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে প্রথম দিনই ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় তেঁতুলিয়ায় ৫ জন, সদরে ১০ জন, বোদায় ৭ জন, আটোয়ারী থানায় ৪ জন ও দেবীগঞ্জ থানায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মধ্যে ৯ জন জামায়াতের সমর্থক। এদের সবার বিরুদ্ধেই নিয়মিত মামলা রয়েছে। অনেকেই পরোয়ানাভুক্ত আসামি। পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহ্‌মদ বলেন, নিয়মিত বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চুরির মামলার আসামি ও সমাজের দুষ্ট প্রকৃতির মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, যৌথ অভিযানের ২য় দিনে কুষ্টিয়ায় ১৫ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ মোট ৬১ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতভর জেলার ৭টি থানা এলাকায় এই যৌথ অভিযান চলে। পুলিশ জানায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে ৫ জামায়াত নেতাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় বিভিন্ন মামলায় ৮ জন, কুমারখালী থানায় ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীসহ ৭ জন, দৌলতপুর থানায় বিভিন্ন মামলায় ১৮ জন, ভেড়ামারা থানায় ১ জামায়াত কর্মীসহ ৭ জন, কুষ্টিয়া মডেল থানায় ১ জামায়াত কর্মীসহ ৮ জন ও খোকসা থানায় ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম এ অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, নাশকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস রোধে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার তাগিদেই এ অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজশাহীতে বিশেষ অভিযানে ১৩ জেএমবি সদস্যসহ ২৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে জেলার ৯ থানায় ১৩ জেএমবি সদস্যসহ মোট ২১৬ জনকে এবং নগরীর ৪ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৪৯ জনকে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশের এ বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চারঘাট পৌরসভার গোপালপুর গ্রামে জেএমবি ক্যাডার আহমেদ বিন আবদুল্লাহ ওরফে লালনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫টি হাতবোমা ও বিপুল পরিমাণ জিহাদী বইসহ তাকে আটক করে পুলিশ। মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও রাজপাড়া জোনের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে একজন শিবিরের ক্যাডারও রয়েছে। এছাড়া একজন অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিও আছেন। বাকিরা বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি এবং মাকসেবী। এদিকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) নিশারুল আরিফ জানান, জেলার ৯ থানায় মোট ২১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন জেএমবি সদস্য রয়েছে। বিশেষ এ অভিযানে জেলার পবা থানায় এক জেএমবি সদস্য, চারঘাট পৌরসভার গোপালপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ৫টি হাত বোমা ও বিপুল পরিমাণ জিহাদী বইসহ জেএমবি ক্যাডার আহমেদ বিন আবদুল্লাহ ওরফে লালনকে, বাগমারা থানায় ৫ জেএমবি সদস্য, পুঠিয়ায় চার জামায়াত নেতা ও দুই জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়। সকালে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জেএমবি সদস্যসহ মোট ১০১ জনকেও আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ মানবজমিনকে বলেন, লালনের বিরুদ্ধে থানায় ইতিপূর্বে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাই তার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছিল। আটক লালনকে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৭ জনসহ ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬ থানায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আলম সরকার জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬ থানায় অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে সোনাগাজীতে ডাকাত দলের সদস্য রয়েছে ১০ জন। যাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সোনাগাজী মডেল থানায় ৫ জন, ছাগলনাইয়া থানায় ৪ জন, ফুলগাজী থানায় ৪ জন, ফেনী মডেল থানায় ৩ জন ও পরশুরাম থানায় ২ জন রয়েছে।
ময়মনসিংহ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ময়মনসিংহ শহর শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলমসহ সন্দেহভাজন ১২ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত শহরের সানাকিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন দুটি ছাত্রবাস থেকে তাদের আটক করা হয়। আশরাফুল আলমের নিয়ন্ত্রাধীন একটি ছাত্রাবাস থেকে জেহাদী বই, জামায়াত শিবিরের ব্যানার ও পোস্টারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীসহ ২৬ জনকে আটক করেছে। সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, বাড়বকুণ্ড, দারোগারহাট, ভাটিয়ারী, বারআউলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরে দুই দিনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই অভিযান চালায় পুলিশ। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে গতকাল শনিবার দপুর ১২টা পর্যন্ত দুই দিনে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও সন্দেহভাজন ৯ জনকে আটট করেছে পুলিশ। ফুলবাড়ী থানার ওসি মোকছেদ আলী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার রাতে মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলায় ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মাগুরার অতিরিক্ত  পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান,  সাঁড়াশি অভিযানের প্রথম দিনে ২৪ জন ও দ্বিতীয় দিনে  ২১ জনকে আটক করা হয়েছে ।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১০ জন, কলারোয়া থেকে ৩জন, তালা থেকে ২ জন, আশাশুনি থেকে ৪ জন, দেবহাটা থেকে ২ জন, কালিগঞ্জ থেকে ৫ জন, শ্যামনগর থেকে ৭ জন এবং পাটকেলঘাটা থানা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক কুমকুম নাজমুন নাহার জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে তিন জন জামায়াত-শিবিরের কর্মী রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন জেএমবি সদস্যসহ পাঁচ উপজেলা থেকে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়,  শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ও কানসাট থেকে জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ-জেএমবির তিন সদস্যকে আটক করা হয়। শিবগঞ্জ থানার ওসি এম এম ময়নুল ইসলাম জানান, জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে একটি শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার ও ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা পারচৌকা এলাকার আফসার হোসেনের ছেলে শাহ অলিউল্লাহ, পূর্ব শ্যামপুর এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে ইসারুল হক ও কৃষ্ণগোবিন্দপুর এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম। ওসি জানান, গোপন সংবাদ ভিত্তিতে সকালে শ্যামপুরের একটি আম বাগান থেকে শাহ অলিউল্লাহ ও ইসারুল হককে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কানসাট এলাকা থেকে আটক করা হয় শহীদুল ইসলামকে। এরা তিনজনই জেএমবির সক্রিয় সদস্য।
বগুড়া থেকে সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ অভিযানে ১১ জঙ্গিসহ ৯০জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ১২ উপজেলায় চালানো হয়। বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি বি-সার্কেল) গাজিউর রহমান জানান, সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাহালুতে উপজেলার জামায়াতের সূরা সদস্য আব্দুল হান্নানসহ ৬ জনত, শেরপুরে উপজেলার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদসহ ৪ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৪ জন, নন্দীগ্রামে তিন ডাকাতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কিশোরগঞ্জে ৩২০ পিস ইয়াবা ও এক কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী দুই নারী-পুরুষ ও ১৩ জুয়াড়িসহ মোট ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের আটক করে। এর মধ্যে শনিবার দুপুরে শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকা থেকে ৩২০ পিস ইয়াবাসহ ১২টি মাদক মামলার আসামি বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী জহির (৪০) এবং সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকা থেকে এক কেজি গাঁজাসহ জালুয়াপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের স্ত্রী অমৃতা (৪৫)কে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতরাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে পাবনায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত জেলা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাবনা সদর থানায় ৪ জন, সুজানগরে ৫ জন, আতাইকুলায় ১ জন, বেড়ায় ১জন, আমিনপুরে ২ জন, ঈশ্বরদীতে ৯ জন ও আটঘরিয়া থানায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি, মামলার পলাতক আসামী ও নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৭ কর্মীসহ ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা নাশকতা বিভিন্ন মামলার এজাহারভূক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সদর, রায়পুর, রামগতি, কমলনগর, রামগঞ্জ উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে রামগঞ্জ ও চন্দ্রগঞ্জ থেকে জামায়াত-শিবিরের ৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাগেরহাট থেকে প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানের ২য় দিন জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জনকে  গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত বাগেরহাটের ৯টি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্যা বলেন, বাগেরহাটের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাশকতা মামলার সন্দেহভাজন ২ জামায়াত কর্মী, বিভিন্ন মামলার ৪জন সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার পুলিশের বিশেষ অভিযানে বাগেরহাটে মোট ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।
মানিকগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, মানিকগঞ্জে জামায়াতের দুই আমীরসহ ৭ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক আব্দুল বাতেন জানান, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা জামায়াতের আমীর মওলানা ওমর ফারুক ও হরিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিমকে নিজ নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সাটুরিয়ায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ঘিওরে জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেন, মানিকগঞ্জ সদরে ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য তারবির আহমেদ, সিংগাইরে বিএনপিকর্মী শফিকুল ও আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা: কচুয়ায় জামায়াতের ৩ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে- উপজেলার ফতেপুর গ্রামের অলিউল্লা (৫০), দারাশাহী- তুলপাই গ্রামের মিজানুর রহমান (৪২) ও প্রসন্নকাপ গ্রামের সফিউল্লা (৪০)। কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, উক্ত ৩ জামায়াত নেতা নাশকতামূলক কাজ পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এমনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ২টায় শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) শফিক আহমেদ জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত ১৩ নাম্বারে সন্ত্রাসী হিসেবে হাসানের নাম আছে। তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, দেশব্যাপী জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কলমাকান্দায় ১ জনকে আটক করেছে কলমাকান্দা থানা পুলিশ। আটককৃত নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের ইজারাকান্দা গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান করিম।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, কমলগঞ্জ উপজলো ছাত্রদলরে আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী তৈমুরকে গ্রেপ্তার করেেছ পুলিশ। গতকাল ভারে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদল নেতা তৈমুরের বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা রয়েছে।
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পুলিশের চলমান সাঁড়াশি অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাড়াশ থানার ওসি এটিএম আমিনুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন  স্থানে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন মামলায় ১০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের সিরাজগঞ্জ জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
দিনাজপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, অভিযানের ২য় দিনে দিনাজপুরে জেএমবির দু’সদস্যসহ ৬৫ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন বলেন, আটককৃতদের মধ্যে দু’জন জেএমবির সদস্য রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি, গোয়েন্দা পুলিশ, বিশেষ শাখার সদস্য ও র‌্যাব অংশ নিচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল