নিজস্ব প্রতিবেদক
চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্বকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সুবিধাভোগী, দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। ঠিক তখনি সিলেট ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটি গঠন হয়েছে বিএনপি-জামাত ও জাপা নেতাদের সম্বন্বয়ে। সুবিধাভোগী, দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিতদের সম্বয়ে গঠিত এই কমিটি ও পকেট কাউন্সিল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। গোপন পকেট কমিটি বাতিল করে নতুন ইউপি ও কাউন্সিল কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে কেন্দ্র বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
লিখিত অভিযোগে তারা বলেন, ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় একটি থানার সমান। এখানে অধিকাংশ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের বসবাস। অথচ কমিটিতে সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের কাউকে কমিটিতে স্থান না দিয়ে বাপ, ছেলে, ভাই দিয়ে একটি পারিবারিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সমুজ আলী, তথ্য প্রচার সম্পাদক জামাল উদ্দিন (খাউয়া জামাল (জাতীয় পার্টি) ও সদস্য আব্দুস সালাম সাবেক বিএনপি নেতা। সমুজ আলী উপশহরে ২০১০ সালে শাহপরাণ থানার ওসির গাড়ি পোড়ানো মামলার প্রধান আসামী। অভিযোগে তারা বলেন, শিশু কাদে মায়ের টানে মা কোলে নেয় এবং আদর করে মায়ের আদরে শিশুটির কান্না বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আপনার কাছে শিশু হয়ে এতিমের মত হাত জোড় করে আমাদের মিনতি, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে আপনার ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম (বিলাল) সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। নজরুল ইসলাম (বিলাল) বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টির লোককে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। অথচ সত্যনিষ্ঠ তদন্ত করলে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠবে তার পরিবারে তিনি ব্যতীত আর কেউ আ’লীগ রাজনীতিতে জড়িত নয়। জামায়াত-বিএনপি’র সরকার পতনের আন্দোলনের সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন এমনকি মিছিলে গাড়ি পোড়ানোর দৃশ্য স্থানীয় সংবাদপত্রে ছড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগে নেতারা কমিটি থেকে বর্ণচোরা বিএনপি-জামায়াত সদস্যদের বাদসহ পকেট কমিটি বিলুপ্তি করে, স্থানীয় তৃণমূল ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্বন্বয়ে কমিটি গঠন করে দলের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম (বিলাল) জানান, ‘যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেন। আমি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি তাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.