৪৮ ঘণ্টার আশ্বাসে ৬০ মাস পার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

৪৮ ঘণ্টার আশ্বাসে ৬০ মাস পার

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭

৪৮ ঘণ্টার আশ্বাসে ৬০ মাস পার

আজ ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সালের এ দিনেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে রাজধানীর রাজাবাজারের বাসায় হত্যা করা হয়েছিল। পরদিন ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত দু’জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর হয়ে গেলেও তদন্তকারী সংস্থা তাদের প্রতিবেদন দিতে পারে নি।

খুন হওয়া সাংবাদিক সাগর সারোয়ার ছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয় তৎকালীন অনেক মন্ত্রীই আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের খুনিদের গ্রেপ্তারে নানা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন হয়নি।

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন হত্যার রহস্য উন্মোচনের বেঁধে দেয়া সময় ৪৮ ঘণ্টার আশ্বাসের দিন গুনে এখন সেটা অপেক্ষার ৬০ মাসে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু হত্যা রহস্যের উন্মোচন হয় নি।

এই পাঁচ বছরে পুলিশ থেকে ডিবি, ডিবি থেকে র‌্যাবের হাতে গেছে তদন্ত ভার; মামলা ঘুরেছে চারজন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে। আদালতেও মামলাটি ওঠেছে ৪৭ বার। কেবল তাই নয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদেও বদল হয়েছে। সাহারা খাতুনের পর মহীউদ্দিন খান আলমগীর হয়ে এসেছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রত্যেকেই দিয়েছেন আশ্বাস, তবু কিনারা হয় নি মামলার।

এ পাঁচ বছরে মামলার অগ্রগতি বলতে সাগর-রুনি যে বাড়িতে থাকতেন ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির এবং বনানী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মিন্টু ওরফে বার গিরা মিন্টু ওরফে মাসুম, বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ ও কামরুল হাসান অরুণ এই মামলায় কারাগারে আছেন। হত্যা ও ডাকাতি মামলার ওই পাঁচ আসামিকে ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদের বাইরে রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান এবং সাগর-রুনির বাড়ির আরেক দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাই কোর্টের জামিনে মুক্ত আছেন।

দীর্ঘ সময়েও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন না হওয়ার কারণে হতাশ সাগর-রুনির পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে সেই সময় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পান শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই জহুরুল ইসলাম, তার কাছ থেকে যায় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলমের হাতে। ৬২ দিন পর ডিবি আদালতের কাছে ব্যর্থতা স্বীকার করলে ২০১২ সালের এপ্রিলে তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব।

র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহর হাত ঘুরে বর্তমানে বাহিনীর সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সর্বশেষ দিন ছিল বুধবার। ৪৭তম বারে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে অগ্রগতি জানানোর আদেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ মার্চ দিন ধার্য রেখেছেন বিচারক।

তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে র‌্যাব কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বলেন, “যু্ক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব কিছুর রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ওই সব প্রতিবেদনে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল