৫৭ ধারায় কোনো সাংবাদিককে নিগ্রহ করা হয়নি: তথ্যমন্ত্রী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

৫৭ ধারায় কোনো সাংবাদিককে নিগ্রহ করা হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬

৫৭ ধারায় কোনো সাংবাদিককে নিগ্রহ করা হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

14681756458তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় কোনো সাংবাদিককে নিগ্রহ করা হয়নি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, এ ধারাটি সাংবাদিকদের মাথার ওপরে নেই।

আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মন্ত্রী।

৫৭ ধারা যেখানে আছে সেখানে তথ্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের জন্য স্বাধীন কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সঠিক তথ্য প্রকাশ করার জন্য কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বরং সাংবাদিকের নামে যারা কারাগারে গিয়েছেন তারা রাজনৈতিক দুষ্কর্ম করার জন্য গেছেন।

‘৫৭ ধারা সাংবাদিকের মাথার ওপরে নেই। এটা দেশের আইন ও সিআরপিসি অনুযায়ী ৩৪টি আইন আছে যেখানে আপনি প্রাথমিক গ্রেফতারের পর জামিন পাবেন না। সুতরাং, আপনারা আরও তথ্য জানবেন, দণ্ডবিধি জানবেন এবং ৫৭ ধারাতে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের কেউই আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে পারেননি যে নিরপরাধ। তারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন, তার সঙ্গে গণমাধ্যমের তথ্য প্রকাশের কোনো সম্পর্ক নেই।’

একটি অনলাইন সংবাদ পোর্টালের সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ও সাংবাদিক শিপন হাবিবকে গ্রেফতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দেড় কোটির বেশি মানুষ সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে। সামাজিক গণমাধ্যমের জন্য কয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে?

‘দেশে আটাশশ’ পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, কমি্উনিটি রেডিও; সব কিছু মিলে কত হাজার ওয়ার্কিং জানালিস্ট ফিল্ডে কাজ করছে। তারপরও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সংবিধানে আইন আছে, দেশের আইন আছে। এই সাড়ে সাত বছরে কতিপয় হাতে গোনা সাংবাদিকদের; আমাদের সমালোচনা করার জন্য বা সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে কোনো রিপোর্ট করার জন্য কাউকে নিগৃহীত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

মন্ত্রী বলেন, দু’একজন সাংবাদিক জেলা উপজেলায় নিগৃহীত হচ্ছে, সেখানে আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করছি, পুলিশ সুপারদের জিজ্ঞাস করেছি, কেন সাংবাদিকের গায়ে হাত দিয়েছে, মামলা কেন নেওয়া হয়নি।

‘ইস্টিশন’ নামের একটি ব্লগ ও সাম্প্রতিককালে ৩৫টি ওয়েব পোর্টাল বন্ধ করা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলো সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে, আমরা যাচাই বাচাই করে দেখছি। সেই সব পত্রিকাকে ডাকা হচ্ছে, বহুতজনে হাজিরও হচ্ছে না। তাদের আমরা জিজ্ঞাস করছি যে খবরটা দিয়েছেন ঠিক করে বুঝিয়ে বলেন। যদি তারা সঠিক তথ্য দিয়ে বোঝাতে পারে তাহলে তাদের ওয়েবপোর্টাল চালু হয়ে যাবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা অনলাইন নীতিমালার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছি। খসড়া নীতিমালা বিবেচনার মধ্যে রয়েছে, এটা যখন চলে আসবে আশা করি সমগ্র ওয়েব পোর্টাল-অনলাইন পরিচালনা করতে পারে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বিগত সাত বছরে নীতিগতভাবে প্রসারও বিকাশে বিশ্বাসী, তা না হলে বেসরকারি খাতে এতোগুলো টেলিভিশন ও এফএম রেডিও দিতাম না।

এই মুহূর্তে রাষ্ট্র গণমাধ্যমের কোনো শত্রু নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার উসকানির বিরুদ্ধে আমরা যারা ভূমিকা রাখছি এই ভূমিকা গণমাধ্যম ও আমাদের রক্ষা করতে হবে। এই মুহূর্তে জঙ্গি-সন্ত্রাস, মাফিয়া চক্র গণমাধ্যম ও সরকারের শত্রু। এটা মোকবেলা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কমিশনার ড. মো. গোলাম রহমান, তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ ও তথ্য কমিশনার এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।