৭ই নভেম্বর উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি বিএনপির – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

৭ই নভেম্বর উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি বিএনপির

প্রকাশিত: ২:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭

৭ই নভেম্বর উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি বিএনপির

৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ই নভেম্বর থেকে ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত ১০দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৭ই নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ। বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে স্থানীয় সুবিধানুযায়ী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সুবিধামত দিন ও সময়ে আলোচনা সভার আয়োজন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন। এছাড়া ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পোষ্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে।

৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথসভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিববৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

যৌথসভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফেনীতে হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফেনীতে কি ঘটেছে, না ঘটেছে আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) নিজেরাই ছিলেন। আমি অন্য কারো কথা বলতে চাই না। ইউ আর দ্যা ভিকটিমস। আপনারা ভিকটিম হয়েছেন, আমাদের দেশের সাংবাদিকরা ভিকটিম হয়েছে। তারা জানেন, কারা এটা ঘটিয়েছে। কারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে আজকে সংবাদ মাধ্যমে নাম দিয়ে, ছবি দিয়ে, ঠিকানা দিয়ে সব এসে গেছে। সরকারের এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিলো। সেই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তারা যে চিরাচরিত অন্ধকার পথ চলে সেই পথ থেকে বেরুতে পারেনি। তারা এখন মিথ্যা কথা বলে জনগনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, মামলা দেয়া ওদের(আওয়ামী লীগ) এর স্বভাব। নিজেরা ঘটাবে উল্টো এখন। আপনাদের (গণমাধ্যম) বিরুদ্ধে মামলা হয়নি আমি তো অবাক হচ্ছি এখন। কারণ আপনাদের গাড়ি-ঘোড়া ভাঙলো, আপনাদেরকে মারলো। তা আপনাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হওয়া উচিৎ ছিলো, তাই না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তার বক্তব্য থেকে এটাই বুঝি আওয়ামী লীগ আসলে গণতন্ত্র চায় না। এটা আবার প্রমাণিত হচ্ছে এই কথার মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগ যদি গণতন্ত্র চাইত তাহলে তাহলে তারা অবিলম্বে বিরোধীগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতো এবং একটা পথ বের করতে পারতো।

সমঝোতার ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সংঘাত চাই না। আমরা বার বার একই সংঘাতের মধ্যে পড়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চাই না। আমরা একটা সমঝোতা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, জনগনের আশা-আকাংখা যেন পুরণ হয় এই ধরণের একটি সরকার গঠন করার জন্য একটা সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমরা চেয়েছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বার বার বলেছি- বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়া নয়, জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। জনগনের আশা-আকাংখা পুরণ করাই আমাদের লক্ষ্য। এটা করতে হলে অবশ্যই সরকারকে আলোচনার মধ্যে আসতে হবে। উনি(ওবায়দুল কাদের) যতই বলুন, যা কিছু বলুন, তাকে আলোচনার মধ্যে আসতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবেন না বলেই সব প্রস্তাব নাকচ করে দিচ্ছেন।