“৭১ কি শুধুই আওয়ামীলীগ’র……?”-মো.নাঈমুল ইসলাম। – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“৭১ কি শুধুই আওয়ামীলীগ’র……?”-মো.নাঈমুল ইসলাম।

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭

“৭১ কি শুধুই আওয়ামীলীগ’র……?”-মো.নাঈমুল ইসলাম।

আমি “মেজর জিয়া বলছি” শুরু হয় ৯ মাস অপেক্ষার প্রহর। একাত্তরের ২৭শে মার্চ শনিবার রাত আটটায় সাধারণ লোকজন যখন রেডিওর নব ঘুরাতে থাকেন হঠাৎ শুনতে পান এক অদ্ভুত আওয়াজ। যার কণ্ঠস্বর ছিল ঘা শিউড়ে উঠার মতো, যার আওয়াজে ছিল স্বাধিকার চেতনা, এক স্বাধীন বাংলা গড়ার স্বপ্ন, অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দান করার স্বপ্ন, যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এক স্বাধীন বাংলা যেখানে মানুষ না খেয়ে মরবে না। ২৫শে মার্চ কালোরাতে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন পাক বাহিনীর কাছে, তখনই মেজর জিয়া স্বপ্ন দেখেন বঙ্গবন্ধুর অপূর্ণ স্বপ্নকে পূর্ণতা দান করার। মেজর জিয়া রেডিওতে ব্রিটিশীয় ভাষায় বলেছিলেন,”I major Zia who declared the independence of Bangladesh on behalf of the prominent leader of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman. দীর্ঘ ৯ মাসের অপেক্ষা শেষ হয় ১৬ই ডিসেম্বর যখন চারিদিক থেকে শুনা যায় বিজয়ের শুর এবং উৎফুল্লিত কন্ঠে, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সহিত মেজর জিয়া’র অবদান। আজও ৪৬ বছর এই বিজয়ের মাসে জিয়া তোমায় মনে পড়ে। কৈশোর, যুবক, বৃদ্ধা থেকে শুরু করে সবার মুখে একই গুণগান জিয়া তুমি জন্মেছিলে বলে আজ বাংলা স্বাধীন হয়েছে। বিজয়ের মাস ১৬ই ডিসেম্বর হঠাৎ মন চাইল টেলিভিশনে সংবাদ দেখতে কিন্তু দেখতে গিয়ে এটা ভাবিনি বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতা এক অবৈধ সরকারের হাতে ন্যাস্ত। যারা চাইলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও বদলে দিতে পারবে। তাইতো সেদিন টিভি দেখতে গিয়ে শুধু শেখ মুজিব ছাড়া আর কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি। কোথায় গেলেন মেজর জিয়া, মাওলানা ভাসানী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রমুখ। এটি একটি ন্যাক্কারজনক এবং অত্যন্ত লজ্জাকর বাংলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্য। ১৬ই ডিসেম্বরে আয়োজিত বিভিন্ন সভা সেমিনারে এদেশের গুণী ব্যক্তিবর্গগণ এবং সাধারণ লোকজন এমনকি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের ভয়ে সেদিন সত্য কথাগুলো সবার সামনে তুলে ধরতে পারেননি। আওয়ামীলীগ’র প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ভাসানীর জন্ম বার্ষিকী মৃত্যুবার্ষিকী নেই কোনো শোক সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। তাহলে কিভাবে আওয়ামীলীগ মেজর জিয়া এবং এদেশের সঠিক ইতিহাস জানবে। দেশনেত্রী বিগম খালেদা জিয়াও মুক্তিযুদ্ধের বিরল ইতিহাসের এক বিরঙ্গনা নারী। তিনি সবসময় পাশে থেকে জিয়াকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি অন্য সব সাধারণ নারীদের মতো নিষ্পেশিত হয়েছেন। অন্য সব সাধারণ নারীদেরকে পাক হানাদার বাহিনী যেভাবে অত্যাচার করেছিল বেগম জিয়াও তাদের একজন হয়ে সেই সব শোষিতদের মধ্যে একজন ছিলেন। কোথায় গেল এই ত্যাগ, সব কিছু আজ নিশ্চুপ আওয়ামীলীগের ভয়ে। মেজর জিয়া এতোই মহান ছিলেন বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর শেখ হাসিনাকে তিনিই প্রথম দেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন এটা আপনার বাবার দেশ এখানে আপনার রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। কোথায় গেল এই মহানুভবতা। আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি শিক্ষা নিবে বাংলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে। ছাত্ররাজনীতিকেও তারা কলুষিত করছে। ছাত্রলীগের কমিটি শেষ পর্যন্ত স্কুলেও দিয়ে দিলেন এবং শুরুতেই কমিটি নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ। এটা বাংলার রাজনীতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে এবং ছাত্ররাজনীতি ত্রাস এবং সন্ত্রাসের সৃষ্টি করছে। মেজর জিয়াউর রহমান, শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানী সবাই ছাত্র হয়েই ঐ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু তাদের আদর্শ বর্তমান বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি কি ধরে রাখতে পারবে। সাধারণের মধ্যেও অসাধারণ যারা তাদের আদর্শ ধরে রাখতে পারবেন বলে আমি আপনি মনে করি। যারা বাংলার রাজনীতির অহংকার, গর্ব। যাদের পদচারণে রচিত হয় বাংলার রাজনৈতিক ইতিকথা। আমি প্রতি মুহুর্তে যাদের রাজনীতিকে অনুসরণ করি তারা আর কেউ নন তারা হলেন তারেক রহমান, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, সোহেল তাজ, জুনায়েদ সাকি, ব্যারিস্টার রুমি ফারহানা, মাহি বি চৌধুরী তাদের মতো ব্যক্তি। আমাদের বর্তমান বাংলাদেশে প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু তার চাইতেও বেশি দুর্নীতিতে। তারা দুর্নীতিতে এতোই নিমজ্জিত হয়ে আছেন দেশের ইতিহাস সম্পর্কেও তাদের সঠিক জ্ঞান নেই। আমি মনে করি রাজনীতি একটি দেশের সম্পদ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি। তাই এটাকে দুর্নীতিতে ব্যবহার করা চলবে না। বর্তমান বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র নেই বললেই চলে। নেই বলেই দেশ আজ চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছে। আমাদেরকে মেজর জিয়াউর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মতো রাজনীতি করতে হবে তবেই দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। তাদের মতো রাজনীতি একমাত্র তারাই করতে পারবেন যাদের কাছে প্রকৃত মনুষ্যত্ববোধ আছে।
কারণ আমি মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী এবং সর্বদা সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবো।

মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।