৭ জানুয়ারী সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে বিএন‌পির‌ সমা‌বেশ

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬

৭ জানুয়ারী সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে বিএন‌পির‌ সমা‌বেশ

একতরফা জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধান ও আইন বিরোধী: রিজভী

৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপল‌ক্ষে ৭ জানুয়ারী সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে সমা‌বেশ কর‌বে বিএন‌পি।

নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক : ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপল‌ক্ষে ৭ জানুয়ারী সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে সমা‌বেশ কর‌বে বিএন‌পি।বিএন‌পির সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব অ্যাড‌ভো‌কেট রুহুল ক‌বির রিজভী বুধবার বেলা সোয়া এগারটার দি‌কে রাজধানীর নয়াপল্ট‌নে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় কাযাল‌য়ে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তি‌নি এ ঘোষনা দেন।

‌রিজভী আ‌রো জানান, ৫ জানুয়ারী সারা ‌দে‌শে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপল‌ক্ষে সব জেলা ও মহানগ‌রে কা‌লো পতাকা মি‌ছিল কর‌বে বিএন‌পির নেতাকর্মীরা। একই সা‌থে কা‌লো ব্যাজ ধারন করা হ‌বে।‌বিএন‌পির এই নেতা জানান, সমা‌বেশ উপল‌ক্ষে যথাযথ কতৃপ‌ক্ষের কা‌ছে অনুম‌তি চে‌য়ে চি‌ঠি দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

‌তি‌নি বলেন, ৫জানুয়ারী কোন নির্বাচন হয়‌নি। আওয়ামী লীগ একতরফা ভা‌বে নির্বাচ‌নে না‌মে ক্ষমতা দখল ক‌রে‌ছে। এ নির্বাচ‌নে চতুস্পদ জন্তু ছাড়া কোন ভোটার ছিল না। তাই এ দিন‌কে সবাই গণতন্ত্র হত্যা দিবস হি‌সে‌বে পালন কর‌ছে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে আ‌রো উপ‌স্থিত ছি‌লেন, বিএন‌পি চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএন‌পির যুগ্ম মহাস‌চিব খায়রুল ক‌বির খোকন, সহ সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

জনগণের প্রত্যাক্ষ ভোট ছাড়া একতরফা জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধান ও আইন বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনগণের সম্পৃক্তা নেই। সংবিধানে আছে জনগণের প্রত্যাক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এটা হচ্ছে পরোক্ষ ভোটে। সুতরাং এ নির্বাচন হচ্ছে বেআইনি।

বুধবার বেলা সোয়া এগারটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আরো একটি এক তরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও বেআইনি এ নির্বাচন জনগণের সাথে প্রহসন ছাড়া কিছুই না। কারন সংবিধানে পরিস্কার বলা হয়েছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন হবে জনগণের প্রত্যাক্ষ ভোটে। এ প্রক্রিয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অবৈধ বলে এ ব্যাপাওে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট মামলা বহাল থাকলেও জনবিছিন্ন সরকার গায়ের জোওে আইউব খান মডেলে এক তরফা এ নির্বাচনটি আজ সম্পূর্ন করতে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, সরকার নিজেদের মুক্তিযদ্ধেও স্বপক্ষের শক্তি ও পাকিস্তানের বিরোধী বললেও তারা আসলে পাকিস্তানের মডেলেই দেশ চালাচ্ছে। যে গণতন্ত্রেও জন্য আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সে গণতন্ত্রকে তারা আজ হত্যা করেছে। এখন আওয়ামী লীগ হাটছে আইউব খান মডেলে। জেলা পরিষদ নির্বাচনও তারই একটি নমুনা। ৬০ এর দশকে তৎকালিন প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান এ মডেলে নির্বাচন করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। তখন এই পদ্ধতির নাম করন করা হয়েছিল বেসিক গণতন্ত্র বা মৌলিক গণতন্ত্র।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নারী ধর্ষন ও নির্যাতনের হার ও বীভৎসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও নারী ও শিশু ধর্ষিতা হচ্ছেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এমনকি ধর্ষণ বা গণধর্ষনের পর তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এর বেশীরভাগ ঘটনাই ঘটছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হাতে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত এক বছরে প্রায় তিনশ জন নারী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক। এক বছরে নারী নির্যাতন বেড়েছে ৭৪%। বেড়েছে গণধর্ষণের ঘটনা ।

ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার নারী শিশুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, মানুষের কোথাও কোন আজ নিরাপত্তা নেই। পুলিশ নির্ভর অবৈধ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে তাদেরকে বিরোধী দল দলনের জন্য ব্যবহার করায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকার বেআইনি সরকার বলেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। কারণ এরাই সৃষ্টি করেছে দেশে বিচার হীনতার সংস্কৃতি। সে কারণে বিভৎস্য অপকর্মে রাস্ট্র-সমাজে প্রচন্ড আবর্ত সৃষ্টি করেছে দুস্কৃতিকারীরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল