৮ ওয়ার্ড ছাড়া সিলেট নগরী রেড জোন ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

৮ ওয়ার্ড ছাড়া সিলেট নগরী রেড জোন !

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

৮ ওয়ার্ড ছাড়া সিলেট নগরী রেড জোন !

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটে করোনার জোন ভাগের পর রেড জোনগুলোতে লকডাউন করার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে অতিদ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা– ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে রোববারই।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৭ জন। হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন ৫ শতাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী। তার পরও লকডাউনের ব্যাপারে চরম উদাসীন, সমন্বয়হীন সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। আটটি ওয়ার্ড ছাড়া পুরো নগরীই রেড জোন হওয়া সত্বেও চলছে গণপরিবহন।

হাটবাজার, মার্কেট খোলা। দফায় দফায় লকডাউনের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে বাজারমূল্যও মুহূর্তেই অস্থির করে তোলা হচ্ছে। এতে ঈদবাজারের মতো বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারাও।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী বলেন, মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, কোয়ারেন্টিন এসবের প্রচার দিয়ে এতদিন চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এতে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে।

নগরীসহ পুরো সিলেটে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা মহামারী। এখন আর সেই নামকাওয়াস্ত লকডাউন নয়, অত্যন্ত কঠোর হতে হবে বাঁচতে হলে, সিলেটের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে হলে। গেটলক গৃহবন্দি থাকার ব্যাপারটি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। অথচ লকডাউনের নামে বা লকডাউন নিয়ে যা হচ্ছে তা দুঃখজনক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম বলেন, মাস্ক, স্যানিটাইজার, পিপিই, গরিবের চাল, ডাল নিয়ে শুধু নয়; ফুটপাত-বাজার, হাট, যানবাহন চালু রাখার আড়ালেও ব্যবসা হচ্ছে একটি মহলের। এসব বন্ধ হলে তাদের চাঁদাবাজির ক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই লকডাউন নিয়ে নাটকীয়তা, উদাসীনতা, গড়িমসি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের সর্বস্তরের সামাজিক, সংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জরুরি এক যৌথসভায় মিলিত হন কবি নজরুল অডিটরিয়ামে। সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় বৈঠকে জোর দাবি জানানো হয় যত দ্রুত সম্ভব লকডাউন কার্যকর করার।

বৈঠকে সিলেটের সব দলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দ্রুত সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানোনো হয়। আহ্বান জানোনো হয় জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়কে সমন্বিত করে লকডাউন কার্যকরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার।

অনুষ্ঠান সঞ্চালক রজত কান্তি গুপ্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লকডাউনের ব্যাপারে কথা বলতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে ফোন করলে তিনি ধরেননি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন সুলতানা গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জানালেন, লকডাউনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জেলা প্রশাসনের একটি অপর সূত্র জানায়, রেড জোনের তালিকাসহ সার্বিক তথ্য দিয়ে করোনা প্রতিরোধের মাল্টিসেক্টরাল কমিটি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। নির্দেশনা আসলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে।

এদিকে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, জেলা মাল্টিসেক্টরাল কমিটির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কাজী এম এমদাদুল ইসলামের কাছে করোনা জোন চিহ্নিত করে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। তবে লকডাউনের ব্যাপারে এখনও তিনি সিদ্ধান্ত দেননি।

এর আগে সিলেট নগরীর ৮টি ছাড়া বাকি ১৯ ওয়ার্ডকেই রেড জোন হিসেবে উল্লেখ করে করোনা জোনের তালিকা প্রণয়ন করা হয়। নগরীর পাশাপাশি জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার ইউনিয়নগুলোকেও রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে তালিকা করা হয়েছে।

গত ১৮ জুন নগরীর ২৭ ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯টি ওয়ার্ডকে রেড জোন চিহ্নিত করে লকডাউন ঘোষণার কথা জানানো হয়েছিল গণমাধ্যমকে। বিষয়টি প্রচারের পর সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর চরম সমন্বয়হীনতার কারণে পুনরায় ঘটা করে করোনা জোন ঘোষণা করা হলেও লকডাউনের ব্যাপারে সিদ্ধান্তই হয়নি বলে জানোনো হয়।

অন্যদিকে লকডাউনের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আমরা তো গত শনিবার থেকে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বিষয়টি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। জোনিং করে দেয়া হয়েছে। আমরা তা ঢাকায় পাঠিয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগ অনুমোদন দিলে বাস্তবায়নে আমরা উদ্যোগী হব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল