“৮ তারিখ বিএনপি আন্দোলন করবে না, করবে এদেশের অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গরিব, অসহায়, বঞ্চিত জনগণ”-মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“৮ তারিখ বিএনপি আন্দোলন করবে না, করবে এদেশের অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গরিব, অসহায়, বঞ্চিত জনগণ”-মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮

“৮ তারিখ বিএনপি আন্দোলন করবে না, করবে এদেশের অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গরিব, অসহায়, বঞ্চিত জনগণ”-মো.নাঈমুল ইসলাম

একজন ভালো রাজনীতিবীদের পরিচয় শিক্ষাগত যোগ্যতায় নয় তার মনুষ্যত্ববোধ, আচার-আচরণ, কৃতজ্ঞতা, ব্যবহার, ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি, ন্যায়-অন্যায়ের সততা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে হয়। এসব গুণের অধিকারী বাংলার অনেক রাজনীতিবীদ ছিলেন যারা এখন আমাদের মাঝে নেই। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানি এবং তার আদর্শ ও গুণের অধিকারী বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মহান ন্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ছাত্রসমাজকে ছাত্ররাজনীতিতে রূপান্তর করার একমাত্র অবদানই মাওলানা ভাসানির। যিনি ছাত্ররাজনীতিকে সৃষ্টি করেছিলেন ছাত্র অধিকার আদায়ের জন্য। রাজনৈতিক একনিষ্ঠ কর্মী একমাত্র ভাসানিকেই বলা যায়। সততা শব্দটি একমাত্র জিয়াউর রহমানকেই মানায়। এই সততার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাবাণীটি, “আমি মেজর জিয়া বলছি, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি স্বার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি স্বার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এবং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।” মেজর জিয়াউর রহমান বলেছিলেন,“যারা রাজনীতিকে আরাম আয়েশের মনে করেন আমি তাদের জন্য রাজনীতি করাকে কঠিন করে তুলবো।” রাজনীতি এবং রাজনীতিবীদ-এ দুয়ের মধ্যে অসীম পার্থক্য বিদ্যমান। রাজনীতিবীদ তখনই হতে পারবেন যখন নিজেকে একজন রাজনৈতিক কর্মী মনে করবেন। নিজেকে যদি প্রথমেই নেতা ভাবা শুরু করেন তাহলে ভালো রাজনীতিবীদ তো দূরের কথা কখনো রাজনীতি শব্দের প্রকৃত অর্থটাও জানতে পারবেন না। নিজেকে কর্মী মনে করে একনিষ্ঠতার সাথে দেশ ও দশের মঙ্গলে কাজ করে যান আপনি যে কখন মানুষের নেতা হয়ে উঠবেন তা বুঝতেই পারবেন না। মানুষ আপনাকে সর্বসাধারণের নেতা করে তুলবে। বর্তমান বাংলাদেশে আমাদের মাঝে এমনই এক রাজনীতিবীদ আছেন যিনি অপূর্ব সব রাজনৈতিক গুণের অধিকারী। যিনি বিশ্বাস করেন রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়। যিনি সর্বদা চেষ্টা করেন ভাসানি এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধরে রেখে রাজনীতিকে অবিচল রাখতে। যিনি জিয়াউর রহমানের আদশের্র প্রতীক তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের গর্ভধারিণী মা, দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন শ্রদ্ধ্যেয় বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাহী কমিটির ভিডিওচিত্র এবং বিশেষ করে খালেদা জিয়া’র বক্তব্য শুনে মনে হলো রাজনৈতিক ইতিহাসের বাংলাদেশে এখনো সুষ্ঠু গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ভালো রাজনীতিবীদদের বিচরণ আছে। উনার দেয়া বক্তৃতার কিছু কথা আমি তুলে ধরতে চাইঃ-“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছেন আমি ক্ষমতায় আসলে সেভাবে করবো না, কারণ আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। আমি উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।” জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর উনি জিয়াউর রহমানের পাশে থেকে বাংলার মঙ্গরের জন্য রাজনীতি করে গেছেন। জিয়াউর রহমানের মতো তিনিও একজন আপোষহীন নেত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত সুষ্ঠু গণতন্ত্রের দেশ বাংলাদেশের তিনবারের দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সাথে পালন করে গিয়েছেন এবং সফলও হয়েছেন। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার আদর্শের প্রতীক জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেবার পর থেকে মোট চার বার গ্রেফতার হন বেগম খালেদা জিয়া। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর এবং সর্বশেষ তিনি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখে দূর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হন। ১৩ নভেম্বর ২০১০ বেগম জিয়াকে তার ২৮ বছরের আবাসস্থল ত্যাগ করাতে বাধ্য করে অবৈধ আওয়ামী সরকার। গ্রেফতার, গৃহহীন, অসম্ভব নির্যাতন করা হলেও তাকে কিভাবে ধৈর্য্য দিয়ে হার মানাতে হয় তা খালেদা জিয়াই একমাত্র জানেন। মাঠে-ঘাটে মানুষের দুঃখ-কষ্টের ভাগিদারী হয়ে রাজনীতি করা এক বিষয় এবং বাহির দেশ থেকে পড়ালেখা করে এসে রাজনীতি করা আরেক বিষয়। আপনি তখনই ভালো রাজনীতিবীদ হয়ে উঠবেন যখন আপনার রাজনীতি এদেশের অসহায়, গরিব, গৃহহীন, বস্ত্রহীন, অন্নহীন মানুষের জন্য হবে। আমলা এবং হাইব্রিড হয়ে দেশের ক্ষমতার ভার নিতে চাইলে তো নির্বাচনে অবশ্যই অবৈধ পথ অবলম্বন করতে হবে। তাইতো জনগণকে বোকা বানিয়ে ১০ বছর ধরে ক্ষমতা নিয়ে আছেন। নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতা কে, তাও ঠিকভাবে বলতে পারেন না। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকেও কলঙ্ক করছেন। তবে এখন তা ক্রান্তিলগ্নে এসে পৌঁছেছে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। বাংলার রাজনৈতিক ইতহাসের সুষ্ঠুতা রক্ষাকারী এবং যাদের রাজনীতি অসহায়, গরিব, গৃহহীন, বস্ত্রহীন, অন্নহীন এবং এদেশের বঞ্চিত মানুষের জন্য এবং সর্বসাধারণের দল বিএনপি-কে বর্তমান গণতন্ত্রহীন অবৈধ আওয়ামীলীগ’র হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। দেশনেত্রী এই শুরুটা ভালো করার উদ্দেশ্যে আগামীকাল (৫ই ফেব্রুয়ারী রোজ সোমবার) পবিত্র নগরী সিলেটে আসছেন শাহজালল (রঃ) ও শাহপরাণ (রঃ) মাজার শরীফ জিয়ারত করতে। স্বাগত জানাই সেই মহান নেত্রীকে। বর্তমান আওয়ামীলীগ’র সাথে দুর্নীতি শব্দটা বেশ ভালোই মানায়। এসএসসি পরীক্ষাকে জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারিতে তো নিয়েই নিছেন যাতে করে সাধারণ জনগণ আন্দোলন করার সুযোগ না পায়। এমনকি খালেদার জিয়া’র রায়’র দিন ধার্য্যও করেছেন এসএসসি ধর্মশিক্ষা পরীক্ষার দিন। যাতে বিএনপি আন্দোলন করে এবং তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। হয়তো আপনারা এরকমও প্রশ্ন করতে পারেন ধর্মকেও তারা ধ্বংস করবে। কেননা রায়ই দিয়েছেন ধর্মশিক্ষা পরীক্ষার দিন আপনাদের কাছে এরকম প্রশ্ন যুক্তিসংগত। ৮ তারিখ বৃহস্পতিবার বিএনপি আন্দোলন করবে না, করবে এদেশের অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গরিব, অসহায়, বঞ্চিত জনগণ। যারা চায় আদর্শের প্রতীক খালেদা জিয়াকে তাদের মাঝে রাখতে। যাতে করে তাদের এসব কষ্ট দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে পারেন। আমি বাস্তবজীবনে তার প্রমাণচিত্রও পেয়েছি। ৮ তারিখ’র লোক সমাগম হবে জনপ্রিয়তার টাকা দিয়ে ভাড়া করা এবং ভয় দেখিয়ে নয়। ৭১-এ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো বাংলার জনগণ মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ঠিক তেমনি বর্তমান বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র, সর্বসাধারণের সুষ্ঠু অধিকার এবং রাজনৈতিক ইতিহাসকে রক্ষা করবে বাংলার জনগণ খালেদার জিয়া’র নেতৃত্বে।
মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।