ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই

মুকুল হক:

ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই এবং একে অন্যের সাথে শ্রদ্ধার সহিত আচরণ করা এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করা

কোভিড ১৯-মহামারী চলাকালীন সময়ে এখনও অনেক বাসা থেকে কাজ করছেন, এখনও বহুসংখ্যক লোক প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে কিংবা বাহিরে কাজ করছেন। সমাজকর্মী, মুদি দোকান কর্মচারী, সাংবাদিক, দমকল কর্মী, পুলিশ অফিসার, ডাক কর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে। মহামারীর কঠিন এই সময়ে কমিউনিটির সেবায় নিয়োজিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানাচ্ছি।

বিশেষ করে আজ এমন এক ভাই-বোনদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁরা হলেন আমাদের স্থানীয় জ্যাকসন হাইটসের গ্রোসারি ও রেস্তোঁরার কর্মচারী। তাঁরা আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের জন্য বিভিন্ন ভাবে শ্রম দিচ্ছেন।

যদিও তাঁদের নতুন স্কেজুল, নতুন সময়ের ক্রিয়াকলাপে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে তাঁদের প্রতিদিনের সাধারণ কর্মকাণ্ড ও চিন্তাভাবনায়। এই কঠিন সময়ে প্রতিদিনই তাঁরা কাজে আসছেন এবং দেখে মনেই হয় না চোখে মুখে ক্লান্তির চাপ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক চাপ আছে। তাঁদের মুখে আছে একটি সুন্দর হাসি এবং আশ্বস্ত ভয়েস।

আমার বাসা থেকে জ্যাকসন হাইটস বেশী দূর না, পাঁচ মিনিটের ড্রাইভিং। প্রায়ই যাওয়া হয় জ্যাকসন হাইটসে, গত সপ্তাহে গিয়েছি মাসের খরচ করতে। পরিচিতি গ্রোসারিতে ঢুকেই কর্মচারী, বাবার বয়সি সালাম জানিয়ে কুশল বিনিময়ে করে চাচাকে লিস্ট থেকে পণ্যর নাম বলছি। একে একে চাচা পণ্য গুলো দিচ্ছেন, হঠাৎ চোখ পড়ল কলার বক্সে, কলা গুলো দেখে মনে হল পুরনো। আসলে ফল যদি ফ্রেশ না হয় তাহলে তা মোটেই খাওয়া উচিত নয়।চাচাকে বললাম চাচা ফ্রেশ কলা নেই? বললেন আছে আমি বেইসমেন্ট থেকে এনে দিচ্ছি।

চাচা কলার বড় বক্সটি কাঁদে করে নিয়ে আসছেন। হঠাৎ দোকানের মালিক আমার সামনেই ( আরও চার/পাঁচ জন কাস্টমার ছিলেন) চাচাকে কটুক্তি করলেন। চাচার অসহায় করণ মুখখানা আমাকে বার বার বলছিল, উনি খুব লজ্জা পাচ্ছেন। মালিক চলে যাওয়ার পর চাচা বললেন, “সব কিছু সহ্য করে আছি, কি আর করা দেশে ফ্যামিলি আছে ভরণপোষণ করতে হয়”। কিছুক্ষণ আমি নির্বাক শ্রোতা ছিলাম, উনার কথা গুলো শুনে বললাম, “চাচা আপনার জগতে আপনার কত সুনাম, কত সম্মান তাই আপনার জগতে আপনি রাজা”।

প্রায়ই শুনা যায়, “লোকেরা খারাপ কাজ ছেড়ে দেয় না – তারা খারাপ মালিক কিংবা ম্যানেজারদেরকে ছেড়ে চলে যায়”। আমার মতে দোকানের মালিক যদি চাচার কোন কাজের অ্যাসাইনমেন্ট উপর অসুখী তাহলে কাস্টমারদের সামনে কটুক্তি না করে বলতে পারতেন……….
১। আপনি এখন ব্যস্ত, অবসর হলেই আমার সাথে দেখা করবেন।
২। আপনি কাজ শেষে, আমার সাথে অফিসে দেখা করবেন।

মাত্র দুটো লাইন আমার কাছে কেন জানি মনে হয়, “কর্মীদের সাথে একটি স্বাস্থ্যকর কাজের সম্পর্ক শুধুমাত্র একটি ইতিবাচক কাজের পরিবেশ তৈরি করে না বরং একটি ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান বিকাশে সহায়তা করে”।

এই সঙ্কটময় সময়ে আপনাদের সকলের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনা করছি। একে অপরের যত্ন নিন, স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের দিকনির্দেশনা মেনে চলুন। আপনারা সবাই আছেন আমার প্রতিদিনের প্রার্থনায়। যে যেখানেই থাকুন-ভালো থাকুন-সুস্থ থাকুন-নিরাপদে থাকুন।