কলিকালের ভন্ডবাবা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক রাজ্যের রাজা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কলিকালের ভন্ডবাবা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক রাজ্যের রাজা

প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭

কলিকালের ভন্ডবাবা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক রাজ্যের রাজা

আবুল মোহাম্মদ, সিলেট:: তিনি ধর্মের নামে শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। দুষ্ঠের দমন আর শিষ্ঠের লালনে থাকবেন বদ্ধপরিকর। পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত পোশাক অস্ত্র আর বিধি বিধানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের শপথ ছিলো তার। কিন্তু এসব কিছুই বেমালুম ভুলে গিয়ে স্বার্থ আর অর্থের নেশায় উম্মাদ হয়ে যাওয়া একজন পুশিল কর্মকর্তার নাম মশিউর রহমান।

তিনি গোলপগঞ্জ থানার একজন এস আই পদে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মাদক ব্যবসায়িদের সাথে নিজেকে জড়িয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠায় গোলাপগঞ্জ থানা থেকে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্লোজদ করা হয়। তিনি পুলিশ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদক ব্যবসায়িদের সাথে গড়ে তোলেন ব্যবসায়িক সর্ম্পক। নিজে হয়ে উঠেন একজন মাদক দ্রব্য ব্যবসায়ি। গোলপগঞ্জে মাদক ব্যবস্থার বিস্তারে হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। বেপরোয়াভাবে চলে তার মাদক ব্যবসা এবং মাদক সেবন। ইয়াবা সহ নানাবিধ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন মশিউর রহমান। মাদক সেবনে এমনিই বেপরোয়া হয়ে উঠেন যে, তার ইয়াবা সেবনের একটি ছবি পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে যায়।

কিছুদিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পাওয়া যায় ইয়াবা সেবনে নিমগ্ন এস আই মশিউর রহমানকে। তার পর থেকে শুরু হয় আরেক অন্যায় কার্যকলাপ। তিনি একজন নিরীহ মানুষকে সন্দেহ করে বসেন যে, তার ছবি সেই তুলে এবং প্রচার করছে। এই অবস্থায় এস আই মশিউর গোলাপগঞ্জের সুমন নামক একজন ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ি আখ্যায়িত করে তাকে ধরে নিয়ে থানা কম্পাউন্ডে এনে অমানবিক নির্যাতন করেন। জোর করে স্বীকার করাতে চান যে সেই তার মাদক সেবনের দৃশ্যটি প্রচার করেছে। নির্যাতনে গুরুতর আহত সুমনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এলাকার ভুক্তভোগী মানুষগণ জানান, গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ফজলুুল হক শিবলী থানায় যোগদানের পর থেকেই বদলে যায় থানা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের দৃশ্যপট। তার অনুসারী পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে জুলুম, অত্যাচার ও নানা অনিয়ম করে গেলেও অদৃশ্য কারণে তিনি নিরবতা পালক করেন। ভুক্তভোগীদের কান্না তার কানে পৌঁছে না। সহকর্মীদের লুটপাট করে আনা অর্থে তিনিও মুগ্ধ হয়ে যান। ফলে মোটামোটি তারা একটি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটে পরিণত হন।

সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে কিছুদিন পূর্বে ফজলুল হক ওসিসহ ১০ জনকে বিবাদী করে এক লক্ষ টাকা ও স্মার্টফোন গ্রহণ এবং আরো দশ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মামলা নং (১৯৩/১৬) মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এস আই মশিউর রহমানকে থানা থেকে কোজ করা হয়। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তনাধীন রয়েছে।

এদিকে ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার একজন স্বাক্ষীর বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষীর প্রত্যাহার করার হুমকি প্রদানের অভিযোগে ওপর একটি মামলা হয় আদালতে মামলা নং (১৯৮/১৬)। এতে স্বাক্ষী ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ করেন ওসি শিবলীর নির্দেশে পুলিশ তার বাড়ীতে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী না দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে যায়। প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জের অনেক প্রবাসীও থানা প্রশাসনের এসব কর্মকর্তাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ কামিয়ে নিতে নানা ধরনের ফাঁদ পাতেন তারা।
জনগণ সেবার বদলে দুর্ভোগ আর লাঞ্চনার ভাগিদার হন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এস আই মশিউরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও ওসি শিবলী রয়ে গেছেন নিরাপদ দূরত্বে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ওসি ও এস আই তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে তথ্য প্রদান করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল